রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ন

জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয় : প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি চেয়াম্যান তারেক রহমান বক্তব্য রাখছেন।

বিশেষ প্রতিবেদক:: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়াম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনপ্রশাসন যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে অবশ্যই জনগণের রায় প্রতিফলিত হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের সামনে একটি বিষয় কিন্তু প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটেছে। জনপ্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব। সেটি আপনারা প্রমাণ করেছেন ১২ তারিখের নির্বাচনে। অপরদিকে যদি আপনাদের কাজ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে কি হতে পারে সেটি আমরা ১৪, ১৮ বা ২৪ সালের নির্বাচনগুলোতে দেখেছি।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম অনুষ্ঠিক সভা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনাদের সঙ্গে আমার এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক একটি সভা বা বৈঠক।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাই হয়তো জেলা প্রশাসক হিসেবে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। তবে আপনারা প্রায় প্রত্যেকেই হয়তো যিনি যার অবস্থান থেকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রমের সঙ্গে হয়তো জড়িত ছিলেন। বিগত জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে জনপ্রশাসনে যারা জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন, আমি প্রথমেই তাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জেলা প্রশাসক সম্মেলন অবশ্যই নতুন কিছু নয়, এটি জেলা প্রশাসকদের একটি নিয়মিত বাৎসরিক সম্মেলন। আজ থেকে এটি শুরু হবে এবং ৬ মে পর্যন্ত চলবে। জনস্বার্থে প্রশাসনের কী ভূমিকা পালন করা উচিত সেটি অবশ্যই আপনারা-কম বেশি অবগত রয়েছেন। এটি নিয়েও বোধহয় নতুন করে বিস্তারিত কিছু বলার নেই। তবে এটি যেহেতু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে আপনাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, সেহেতু সরকারের গৃহীত নীতিমালা এবং জনপ্রশাসন সম্পর্কে সরকারের কিছু পদক্ষেপ বা পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশনা নিয়েই মূলত আমি আপনাদের সামনে কয়েকটি কথা তুলে ধরতে চাই বা বলতে চাই।

তিনি বলেন, একটি দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে, প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তো লাভবান হতে পারেন। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার উপরে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুতরাং জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব পদে কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, সবসময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই কিন্তু জনপ্রশাসনকে হয়তোবা দুর্নীতি পরায়ন এবং অপেশাদার করে তোলার অন্যতম একটি কারণ। সুতরাং আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান থাকবে জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য ভাবুন। দেশের যেকোনো স্থানেই যেকোনো সময় জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রাখুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যেরকম চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদ কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। এজন্যই আমি পূর্বের কথাটি বলেছি আপনাদের সামনে। জনপ্রশাসনের যেকোন স্তরের কর্মকর্তারা যদি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, যেকোনো সময়, যেকোনো পদে, দেশের স্বার্থে, যেকোনো স্থানে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি থাকেন, আমার বিশ্বাস জনপ্রশাসনে পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এটা একটা সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তারেক রহমান বলেন, জনগণ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রত্যাশা থেকে সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার। স্বাভাবিকভাবেই জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্ক্ষার একটি বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাইবে। বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকরাই জনগণের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতু বন্ধন। আপনাদের সততা কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতার উপরে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য বলা যায় প্রায় পুরোটাই নির্ভর।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অবস্থা ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার মনে হয় আপনারা ভালোভাবে অবগত রয়েছেন। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি দুর্বল বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল। অবশ্যই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনাদের সহযোগিতায় অনেকখানি সেই পরিস্থিতি আমরা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি, এই আড়াই মাসে। তবে সম্পূর্ণভাবে সেটি এখনো পরিবর্তিত হয়নি। ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দুর্নীতি, লুটপাট, রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল। সেই শাসন আমল ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা বর্তমান সরকারের কাঁধে। বিগত সরকারের সময় দেশকে একটা আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। বিভিন্ন স্ট্যাটিস্টিকস যেটা বলে দেশে দারিদ্র বেড়েছে। দেশে বেকারত্ব বেড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান হয় নাই বললেই চলে। প্রতিটি সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে বলা যায় অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। আপনারা মনে হয় তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে হয়তো এই মুহূর্তে পৃথিবীর কোনো দেশই রক্ষা পায়নি। সব দেশই কমবেশি এফেক্টেড হয়েছে। বাংলাদেশে এফেক্টেড হয়েছে। তবে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে আমরা সকলে মিলে কিভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায় সেটি হচ্ছে আমাদের চেষ্টা বা অব্যাহত চেষ্টা। আপনাদের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি। ঠিক এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের আবহমান কালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছি আমরা। এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নে সরকার দেশের প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপের বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছে সরকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com